“দলের প্রতি ত্যাগেরই স্বীকৃতি পেয়েছি”: বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক নুরুল আমিন
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী হাইকমান্ডের নির্দেশক্রমে এ কমিটির অনুমোদন দেন। বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ঘোষিত কমিটিতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে আলহাজ নুরুল আমিনকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল ইসলাম আব্বাস।এর আগে ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আলহাজ নুরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির একজন গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।তার নেতৃত্বে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হবে বলে নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় সংগঠনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নবগঠিত ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও গতিশীল হবে এবং তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে কমিটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও জামায়াতের নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে– এমন দাবি করে কয়েকদিন ধরে কমিটি বিলুপ্তর দাবিতে আন্দোলনও করছেন কিছু নেতাকর্মী। যদিও সদর উপজেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, যারা আন্দোলন করছেন তারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে মিছিল সমাবেশ করেছেন, তাই তাদের আন্দোলন অযৌক্তিক।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তার পুরস্কার পেয়েছি। আমি বিগত দিনে বিশেষ কিছু নেতার অপকৌশলের শিকার হয়েছি, আমাকে আহ্বায়ক থেকে ডিমোশন করে ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল, তবুও দল ছেড়ে যাওয়া তো দূরের কথা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে সদর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। কিন্তু সেই কমিটির বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে তারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন জানান, কেন্দ্র কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
বরিশাল বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আঁকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, গত ১২ জুলাই কেন্দ্র বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন হয়েছে। এই কমিটির বিরোধিতা করা মানে সংগঠনের বিরোধিতা করা। বিএনপি একটি বড় দল, এখানে একাধিক নেতৃত্ব থাকবে, সবাই যে মূল্যায়িত হবে এটা সঠিক নয়। সাংগঠনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা উচিত ছিল, রাস্তায় আন্দোলন করা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।



মন্তব্য বন্ধ আছে।