কুয়াকাটায় জমি কিনবে বিসিসি? ১৩ দিনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাপ

কুয়াকাটায় জমি কিনবে বিসিসি? ১৩ দিনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় জমি কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলে বায়না হিসেবে দেওয়া পাঁচ কোটি টাকা হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে বাকি আছে মাত্র ১৩ দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে লেম্বুচরমুখী সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ৭ একর ৩২ শতাংশ জমি কেনার উদ্যোগ নেয় বিসিসি। জমিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৭ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যে গত বছরের ১২ নভেম্বর জমির মালিক মোস্তফা শিবলির সঙ্গে বায়না চুক্তি সম্পন্ন করা হয় এবং অগ্রিম হিসেবে পরিশোধ করা হয় পাঁচ কোটি টাকা। ছয় মাস মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১২ মে। এর মধ্যে অবশিষ্ট ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করে জমি ক্রয় সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই জমি কেনার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১৭ নভেম্বর জমি ক্রয়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরবর্তীতে আপিলের শুনানি শেষে গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায় প্রকল্পটি এখনো ঝুলে রয়েছে।

এদিকে, প্রশাসনিক পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ১৬ মার্চ বিসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নিলে বিসিসি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাসুদ বলেন, বায়না চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রয় সম্পন্ন করতে না পারলে ক্রেতা পক্ষকে অবশ্যই নোটিশ দিয়ে সমঝোতায় যেতে হবে। অন্যথায় আদালতের মাধ্যমে বায়নার টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সে ক্ষেত্রে জমির মালিকই ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে আইনি সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে জমির মালিক মোস্তফা শিবলি জানান, বিসিসি এখনো জমি না কেনার বিষয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। “তারা যেহেতু কোনো নোটিশ দেয়নি, আমি ধরে নিচ্ছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা জমি কিনবে। না কিনলে তখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না,” বলেন তিনি।

বিসিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এখন প্রশ্ন একটাই, বিসিসি কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি কিনে প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোবে, নাকি সিদ্ধান্তহীনতার কারণে হারাতে বসবে কোটি টাকার বায়না?

Loading