মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে রেখে সড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকের চাপায় পা হারালেন বাবা
বরিশাল নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা সংলগ্ন ব্রিজের সামনে এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মেয়েকে স্নাতক পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান খাজা নামের এক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বরিশাল নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অস্ত্রোপচার (অপারেশন) চলছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আহত আসাদুজ্জামান খাজা তার মেয়েকে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে পৌঁছে দেন। মেয়েকে কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে আশ্বস্ত মনে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আফসোস করে জানান, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরপরই উপস্থিত কিছু উৎসুক মানুষ সহায়তা না করে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে ওই মুহূর্তে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত এগিয়ে আসেন উপস্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক কাজী মো. আবু যাঈদ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখার মুখ্য সংগঠক মো. সালমান হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাতেম আলী কলেজ শাখার নেতা মো. নাজমুল এবং নাজমুল (স্কাউট)-এর যৌথ তৎপরতায় মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্যস্ততম চৌমাথা ব্রিজ এলাকায় প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া গতিতে যান চলাচলের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি নিরোধক স্থাপন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।




মন্তব্য বন্ধ আছে।