উজিরপুরে পূর্ব মশাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে জমকালো সংবর্ধনা

উজিরপুরে পূর্ব মশাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে জমকালো সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ১৩৫ নম্বর পূর্ব মশাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ট্যালেন্ট পুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা কমিটি। সোমবার (২০ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশসেরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এম. জাকারিয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দীন সিকদার, অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ জামাল হোসেন খান, মো. হেমায়েত উদ্দিন, মো. হিরন হাওলাদার, মো. ফাইজুল হকসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের আগে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি পাঠ পড়তে দেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাবলীলভাবে পাঠ উপস্থাপন ও প্রশ্নের উত্তর দিলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্ট পুলে এবং দুইজন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো:- তানহা খান, সারিকা ইসলাম, মাহিরা হিমি, অনন্যা আক্তার ও মৌ আফ্রিন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

এ সময় মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের জাতিনির্মাতা। তাদের মেধা, নৈতিকতা ও শিক্ষার বিকাশে শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও আরও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বিদ্যালয়ের এমন উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Loading