ভোলার লালমোহনে আগুন: ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই পুড়ে ছাই দুই বসতঘর
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুই ভাইয়ের বসতঘর। মাত্র ৩০ মিনিটের আগুনে সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি। সর্বনাশা এই আগুনে পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী এলাকার শিউলি বাড়িতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ভাই হলেন আব্দুল মুনাফ এবং (মরহুম) আলী হোসেন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালের দিকে বসতঘর থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখে ডাকচিৎকার শুরু করেন গৃহকর্তা আব্দুল মুনাফ। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া বসতঘর দুটি ও ভেতরের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল মুনাফ শিউলি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,মুহূর্তের মধ্যেই বহু বছরের কষ্টার্জিত সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, টেলিভিশন, ফ্রিজ, শোকেস, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকাসহ সব পুড়ে ছাই। প্রায় তিন বছর আগে ধারদেনা করে ঘর দুটি বানিয়েছিলাম, এখনও ৬ লাখ টাকার ঋণ ঘাড়ের ওপর। সেই দেনা শোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছি, নতুন করে ঘর তোলার সাধ্য আমাদের নেই। এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
এই অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাইয়ের আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা এখন সরকারি প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের মানবিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর ভস্মীভূত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে টিন ও প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




মন্তব্য বন্ধ আছে।