উজিরপুরে স্কুল ফিডিং বহনের সময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর হাত ভাঙার ঘটনা: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন

উজিরপুরে স্কুল ফিডিং বহনের সময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর হাত ভাঙার ঘটনা: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে ‘স্কুল ফিডিং’-এর ভারী খাবার বহনের কাজ করাতে গিয়ে পা পিছলে হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। প্রধান শিক্ষিকার চরম অবহেলা ও শিশুশ্রম সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ ভঙ্গের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওটরা ইউনিয়নের ৩০ নম্বর চকমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি সহায়তার ‘স্কুল ফিডিং’-এর ডিম ও রুটি প্রতিদিন দ্বিতীয় তলায় তোলার কাজ করানো হতো শিক্ষার্থীদের দিয়ে। গত ১৫ জুলাই (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে গজালিয়া গ্রামের বজলু মোল্লার ছেলে এবং ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র দীনইসলামকে দিয়ে রাস্তা থেকে টিফিনের খাঁচি মাথায় করে ভবনের দোতলায় নেওয়ার কাজ করানো হয়। এ সময় সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় শিশুটি এবং তার হাত ভেঙে যায়।

পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা আহত শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রধান শিক্ষিকা কিংবা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে কোনো প্রকার সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, এমনকি ন্যূনতম খোঁজখবরও নেওয়া হয়নি।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা বজলু মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “স্কুলের দপ্তরী সিরাজুল ইসলাম আমার ছোট বাচ্চাটাকে দিয়ে ভারী কাজ করিয়েছে। মাথায় খাঁচি ভর্তি ডিম ও রুটি নিয়ে দুই তলায় ওঠার সময় ছেলেটি পা পিছলে পড়ে হাত ভেঙে ফেলে। এই চরম অবহেলার পরও প্রধান শিক্ষিকা একবারের জন্যও বাচ্চার শারীরিক অবস্থার খবর নেননি।”

স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও কোমলমতি শিশুকে দিয়ে কায়িক পরিশ্রম করানোর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনতা। গত ১৬ জুলাই এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় তোলপাড় সৃষ্টি করা সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত আমলে নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Loading